বিশেষ প্রতিনিধি,বিডি বাংলা নিউজ২৪
দার্শনিক কার্ল পপারের সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ (Critical Rationalism) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন। তাঁর থিসিসের শিরোনাম: “A Philosophical Investigation of Karl Popper’s Critical Rationalism”।
গবেষণায় তিনি বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক কার্ল পপারের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানদর্শনভিত্তিক চিন্তার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। বিশেষভাবে তিনি দেখিয়েছেন, পপারের falsifiability নীতি কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং জ্ঞানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, বরং পরীক্ষাযোগ্য ও সংশোধনযোগ্য অনুমান (conjecture) হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানচর্চায় সমালোচনা, বৌদ্ধিক সততা এবং ভ্রান্তিযোগ্যতার (fallibilism) গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
এ প্রসঙ্গে গবেষক সাজিয়া আফরিন বলেন, “পপারের সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ কেবল একটি তাত্ত্বিক অবস্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের একটি মৌলিক ভিত্তি। মানবজ্ঞান স্বভাবতই ভ্রান্তিযোগ্য—তাই জ্ঞানকে কেবল রক্ষা নয়, বরং সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হয়। কোনো মতবাদকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে তা বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি করতে পারে।”
এই গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শংকর জোয়ার্দ্দার। বহিঃপরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকবাল শাহিন খান এবং ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার পাল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং এর পূর্বে অনুষ্ঠিত ৭৬তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) পরীক্ষকবৃন্দের সুপারিশ ও মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে গবেষক সাজিয়া আফরিনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
উল্লেখ্য, সাজিয়া আফরিন তার শিক্ষাজীবনে পূর্বেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি স্বর্ণপদক ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড অব একাডেমিক এক্সিলেন্স অর্জন করেন। এছাড়া এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি সাফল্যের সাথে জিপিএ ফাইভ অর্জন করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী একজন দার্শনিকের উপর তার গবেষণা বাংলাদেশের দর্শনচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন। দেশে এ বিষয়ে পূর্বে তেমন কোনো গবেষণা পরিলক্ষিত হয়নি। আশা করা যায়, এ অর্জন দেশে সমালোচনামূলক ও যুক্তিনির্ভর গবেষণা-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বিডিবাএন২৪/আরডি


