নিউজ ডেস্ক,বিডি বাংলা নিউজ২৪
জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজ্জাদুল আলম পলাশ। মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর সংগঠনটির সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ আরিফ হোসেন খোকন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি কে এম হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মিয়া মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলামের সমন্বিত সিদ্ধান্তক্রমে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে সাজ্জাদুল আলম পলাশ জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক (তথ্য ও গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, সংগঠনের প্রতি সক্রিয়তা ও আদর্শিক নিষ্ঠা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মনোনীত করে বলে জানানো হয়।
সাজ্জাদুল আলম পলাশের রাজনৈতিক পথচলাকে শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদ-পদবির মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা মূলত একটি দীর্ঘ আদর্শিক অভিযাত্রার ফল, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়—প্রাধান্য পেয়েছে বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা।
জাতীয়তাবাদী পরিবারের আদর্শে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই চেতনা সংগঠিত রূপ পায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। সে সময়ের ছাত্ররাজনীতি তাঁকে শুধু স্লোগান বা কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে চিন্তাশীল করে তোলে।
২০০৮–০৯ সাল থেকে ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সক্রিয় লেখালেখি ছিল সেই চিন্তারই প্রকাশ। সে সময় রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছিল, আর ঠিক সেই সময়েই তিনি সরকারবিরোধী সমালোচনামূলক লেখালেখির মাধ্যমে ভিন্নমতের কণ্ঠকে ধারণ করেন। এর ফলে তাঁকে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হলেও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
পরবর্তীতে ব্লগার হত্যাকাণ্ড ও ভিন্নমতের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়ে গেলে তিনি প্রকাশ্য লেখালেখি সীমিত করেন। তবে এটিকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তিনি কৌশল পরিবর্তন করেন—যেখানে প্রকাশ্য অবস্থানের পরিবর্তে নেপথ্যে থেকে সাংগঠনিক সহায়তা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার ও পানি বিতরণে তাঁর ভূমিকা সেই নীরব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারই একটি বাস্তব উদাহরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভূমিকা সরাসরি মিছিল-মিটিংয়ের বাইরে থেকেও আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে দৃঢ় করে।
বর্তমানে রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি এবং যুবদলের ঢাকা মহানগর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি আবার প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—পরিস্থিতি বদলাতে পারে, পদ্ধতি বদলাতে পারে, কিন্তু আদর্শে স্থির থাকা রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় বদলায় না।
এই আদর্শিক ধারাবাহিকতাই জিয়া সাইবার ফোর্সের মতো একটি সাইবারভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়োগ নয়, বরং সময়ের বাস্তবতায় পরীক্ষিত একজন সংগঠকের কৌশলগত উত্তরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া:
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক প্রধান সাজ্জাদুল আলম পলাশ বলেন,
“জিয়া সাইবার ফোর্স শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে ধারণ করে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসকে সত্য, যুক্তি ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার একটি শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে সাইবার জগৎ যেমন জনমত গঠনের অন্যতম মাধ্যম, তেমনি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিরও বড় ক্ষেত্র—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ শুধু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ নয়, বরং সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মসূচির ভাষা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বহন করে। এই গুরুদায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আমি বিশ্বাস করি, দলীয় শৃঙ্খলা, তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন এবং সময়োপযোগী রাজনৈতিক ভাষার মাধ্যমে জিয়া সাইবার ফোর্সকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করা সম্ভব। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমার মেধা, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
বিডিবাএন২৪/আরডি
Read more: সাইবার স্পেসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি জোরদারে নতুন দায়িত্ব- অর্থপাচারের অভিযোগ সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সচিব হচ্ছেন এনবিআর সদস্য আল আমিন প্রামাণিক
- গ্লোবাল হোম এপ্লায়েন্স ব্র্যান্ড ভ্যারোনিকার হেড অব সেলস হিসেবে যোগদান করলেন এ.কে.এম. কামরুজ্জামান (নিলু)
- ইবির আইন অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন
- সাইবার স্পেসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি জোরদারে নতুন দায়িত্ব
- জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আরেফিন রাফি আহমেদ



