কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দকে ঘিরে আয়োজন করা হলো এসএসসি ২০০৫ ও এইচএসসি ২০০৭ ব্যাচের বন্ধুদের এক উষ্ণ, প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী। শহরের কোলাহল পেরিয়ে প্রকৃতির শান্ত সান্নিধ্যে এই আয়োজন যেন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে আবার ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ হয়ে উঠেছিল।
ঈদের তৃতীয় দিনে বটতৈল, খাজানগরের লেক ভিউ ক্যাফের নৈসর্গিক পরিবেশে আয়োজিত এই মিলনমেলায় গ্রেটার কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে একত্র হন ০৫/০৭ ব্যাচের বন্ধুরা। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া মুখগুলোতে ছিল আনন্দের দীপ্তি, আর কথোপকথনের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল শৈশব-কৈশোরের স্মৃতির উজ্জ্বল প্রতিফলন। যেন সময় থেমে গিয়েছিল কিছুটা, আর সবাই ফিরে গিয়েছিল সেই স্কুল-কলেজের নির্ভেজাল দিনগুলোতে।
প্রকৃতির মৃদু হাওয়ায় ভেসে আসা হাসির শব্দ, আড্ডার উচ্ছ্বাস আর স্মৃতিচারণের আবেগ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। ব্যস্ত জীবনের চাপের মাঝে এই মিলনমেলা হয়ে ওঠে এক টুকরো প্রশান্তি, যেখানে পেশা, দূরত্ব কিংবা সময়ের ব্যবধান ভুলে গিয়ে সবাই এক হয়ে যায় বন্ধুত্বের এক অটুট বন্ধনে।
আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন ব্যাচের দুই উদ্যোগী সদস্য পিয়াশ ও রাইসুল রবিন, যাদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি প্রাণ পায়। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বন্ধুরা আবার একত্রিত হওয়ার এই সুযোগ পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন অনেকে।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এমন আয়োজন শুধু আনন্দের উৎস নয়, বরং সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সময়ের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বগুলোকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
দিনশেষে সন্ধ্যার আলো যখন ধীরে ধীরে নিভে আসে, তখনও মিলনমেলার রেশ থেকে যায় সবার মনে। স্মৃতির ভাঁজে জমে থাকা পুরনো দিনের গল্প আর নতুন করে তৈরি হওয়া মুহূর্তগুলো যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—বন্ধুত্ব কখনো পুরনো হয় না, বরং সময়ের সাথে আরও গভীর, আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
এই অনুষ্ঠানের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও জনসংযোগের দায়িত্বে ছিলেন তাজবীর সজীব।
বিডিবাএন২৪/আরডি


