নিউজ ডেস্ক,বিডি বাংলা নিউজ২৪
বাংলার ভাবজগতের চিরআলোকিত নাম বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ। তাঁর জীবনদর্শন ও গান আজও মানবতার মশাল হয়ে জ্বলছে। সেই লালনের ৩১৪টি গানের মূল পাণ্ডুলিপি আজও বাংলার বাইরে, কলকাতার শান্তি নিকেতনে সংরক্ষিত।
এই অমূল্য সম্পদটি ফেরত চেয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন-যাতে লালনের সেই ঐতিহাসিক গানের খাতা ফেরত এনে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডিসির ভাষায়, “এটি শুধু কুষ্টিয়ার নয়, সমগ্র বাংলার ঐতিহ্য। লালনের ৩১৪টি গানের মূল পাণ্ডুলিপি ফেরত আনতে আমরা সার্বিকভাবে কাজ করছি।”
প্রায় ১৩৫ বছর আগে শিলাইদহের তৎকালীন জমিদার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের আশ্রম থেকে গানের খাতাটি নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতায়। বর্তমানে সেই পাণ্ডুলিপি
শান্তি নিকেতনে সংরক্ষিত আছে। সময়ের ব্যবধানে অনুলিপি কুষ্টিয়ায় এলেও, মূল খাতা আর ফিরে আসেনি। অথচ এই খাতার প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন বাংলার ভাব, দর্শন ও মানবতার এক জীবন্ত দলিল।
লালনের গান মুখে মুখে ছড়াতো, শিষ্যরা লিখে রাখতেন সেই অমূল্য বাণী। ভোলাই শাহসহ তাঁর অনুগামীরা লালনের জীবদ্দশায়ই দুটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গান। এর একটি খাতা আজও শান্তি নিকেতনে বন্দি।
প্রতি বছর লালনের তিরোধান দিবসে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি মুখর হয়ে ওঠে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, অনুরাগী ও গবেষকের পদচারণায়। এখন সরকারও ১৭ অক্টোবরকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মূল পাণ্ডুলিপি কুষ্টিয়ায় ফেরানোর দাবিটিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
লালন গবেষক ও ভক্তদের মতে, “লালনের সেই খাতাটি শুধু কাগজ নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের দলিল। শান্তি নিকেতন থেকে এটি কুষ্টিয়ায় ফিরিয়ে আনা হলে সেটিই হবে লালনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”
মানবতার দীক্ষাগুরু লালন ফকিরের গানের সেই পাণ্ডুলিপি ফিরিয়ে আনতে এবার সরকারি উদ্যোগের পথে হাঁটলেন কুষ্টিয়ার ডিসি। এখন দেখার বিষয়, বাংলার এই অমূল্য সম্পদ কত দ্রুত তার নিজ ঘরে, ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমিতে ফিরে আসে।
বিডিবাএন২৪/আরডি



