কুষ্টিয়া পৌর বাজারে চাল, মাংস, মাছ ও সবজির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে ক্রেতারা — মনিটরিংয়ের অভাবে বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
কুষ্টিয়া পৌর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক,বিডি বাংলা নিউজ২৪
পৌর বাজারে চাল, মাংস, মাছ ও সবজির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে ক্রেতারা — মনিটরিংয়ের অভাবে বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
কুষ্টিয়া পৌর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল, মাংস, মাছ ও শাকসবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কষ্টের সীমা নেই। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি দরে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন প্রকার চালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।
মিনিকেট চাল: ৭৫–৮০ টাকা কেজি
কাজললতা চাল: ৬৫–৭০ টাকা কেজি
বাসমতি চাল: ৯০–৯৫ টাকা কেজি
আঠাশ চাল: ৫৫–৬০ টাকা কেজি
বিক্রেতাদের মতে, ধানের দাম, বিদ্যুৎ বিল এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বাড়ছে।
মাংসের বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গরুর মাংস: ৭৫০ টাকা কেজি
খাসির মাংস: ১,১০০–১,২০০ টাকা কেজি
বয়লার মুরগি: ১৮০ টাকা কেজি
বিক্রেতারা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সবজির দামেও লেগেছে আগুন।
বেগুন, করোলা, পটল ও ঢেঁড়স: ৬০–৮০ টাকা কেজি,টমেটো: ১৪০ টাকা কেজি
বিভিন্ন শাক (লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক): ৩০–৪০ টাকা কেজি
তবে আলু কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে — বিক্রি হচ্ছে ১৫–২০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, আর পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা কেজিতে।
ক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন,আগে ৫০০ টাকায় অর্ধেক সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সেই টাকায় তিনটি জিনিসও কেনা যায় না। প্রতিদিন দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় তো বাড়ে না।
অন্যদিকে বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম বলেন,আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকেই পণ্যের দাম বেড়ে আসে। পরিবহন ও গুদাম খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা বাধ্য হচ্ছি দাম সামঞ্জস্য রাখতে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, পাইকারি সিন্ডিকেট ও মনিটরিংয়ের অভাবেই খুচরা বাজারে দামের উর্ধ্বগতি। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাল, মাংস ও সবজির লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে কুষ্টিয়ার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত জনগণের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা ও দ্রুত বাজার মনিটরিং না হলে, সামনে আরও সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
বিডিবাএন২৪/আরডি



