বার্তা সম্পাদক,বিডি বাংলা নিউজ ২৪
দীর্ঘদিনের মূল্যবৃদ্ধির পর কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজারে এখন স্বস্তির হাওয়া বইছে। সবজি, মাছ, মুরগি, ডিম ও মসলা জাতীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও চালের দাম আগের মতোই রয়ে গেছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ কাঁচা সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
স্থানীয় ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন,
আগের বাজারে গেলে মনে হতো সবকিছুর দামে আগুন। এখন সত্যিই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আলু, পটল, ঢেঁড়স, করলা—সবজির দাম অনেকটাই কম।
সবজি বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান,
এখন আলু বিক্রি করছি ৬ কেজি ১০০ টাকায়, পটল ৪০ টাকা, করলা আগে ছিল ৮০ টাকা এখন ৪০ টাকায়, ঢেঁড়স ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, আর রসুন প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
সাধারণভাবে দেখা যায়, কাঁচা সবজির বেশিরভাগই এখন ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ৭০–৮০ টাকার নিচে নামেনি।
মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে—
বয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা
সোনালি মুরগি: ২২০ থেকে ২৪০ টাকা
লেয়ার মুরগি: ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা
গরুর মাংস: ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা
রুই মাছ: ২৮০ টাকা কেজি
ডিমের হালি: ৪৪ টাকা
সবজির পাশাপাশি টমেটো কেজি প্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এখনও তুলনামূলক বেশি বলে জানান ক্রেতারা।
চালের বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও দাম কমেনি— মিনিকেট চাল: ৮০ টাকা কেজি
বাসমতি চাল: ৯০ টাকা কেজি
নাজিরশাইল চাল: ৮৫ টাকা কেজি
পোলাও চাল: ১১০ টাকা থেকে ১৩০ কেজি
বাজার করতে আসা গৃহিণী রূপা বেগম বলেন,
সবজির দাম অনেকটাই কমেছে, মুরগি আর মাছের দামও এখন সহনীয়। তবে চালের দামটা আগের মতোই আছে—যদি এটাও কমত, তাহলে পুরো বাজারটাই স্বস্তির হতো।
পাইকারি বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ কমে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে চালের বাজার এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কুষ্টিয়ার পৌর কাঁচাবাজারে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই আশা করছেন—এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হোক এবং অচিরেই চালের দামও সাধারণ মানুষের নাগালে ফিরে আসুক।
বিডিবাএন২৪/আরডি



