নাটোর প্রতিনিধি,বিডি বাংলা নিউজ২৪
নাটোরে দুটি বিদ্যালয়ের কাজ ৫ বছরেও অসম্পূর্ণ, শিক্ষা সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ
নাটোর জেলায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম, বিলম্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পগুলোর দায়িত্বে থাকা তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান (বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান কার্যালয়) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকারি কোটি টাকার বিল ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিলগারিয়া দাখিল মাদ্রাসা: ৯ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও
নাটোর সদর উপজেলার বিলগারিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২১ সালের ২২ জুন।
৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মেসার্স আব্দুল মান্নান, যাকে ওয়ার্ক অর্ডার দেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান।

চুক্তি অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল মাত্র ৯ মাস। কিন্তু প্রায় ৫ বছর পার হলেও এখনো ৩০ শতাংশ কাজ বাকি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও ঠিকাদার যোগসাজশ করে মোট ৭০ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ঠিকাদার পলাতক হয়ে যায় এবং প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান গোপনে ঢাকায় বদলি হয়ে যান।
ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের শ্রেণিকক্ষের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
সরেজমিনে দেখা যায়—
পুরো ভবনের মোজাইক, দরজা-জানালা, টাইলস, স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক ফিটিংস, রং, থাই, এসএস কাজসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার কাজ এখনো বাকি।
ফলে দীর্ঘমেয়াদি কাজ বিলম্বের কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
বারঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়: ৪ বছরেও কাজ শেষ নয়
নাটোরের লালপুর উপজেলার বারঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও একই চিত্র।
২০২২ সালের ১৫ মার্চ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৮০.৭৫ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৯ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো ৪৫ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও ঠিকাদার মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজ মিলে এ পর্যন্ত ৭২ লাখ টাকা বিল তুলে ভাগ করে নিয়েছেন, অথচ কাজ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
অসম্পূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে —
ভবনের ছাদ, প্লাস্টার, সিড়ি ও ছাদের প্যাটেন্ট স্টোন, দরজা-জানালা, রেলিং, স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ, সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল।
এসব কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকার প্রয়োজন।
সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদার ও প্রকৌশলী উভয়েই আত্মগোপনে চলে গেছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
শিক্ষক-অভিভাবকদের ক্ষোভ
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“বছরের পর বছর ধরে আমরা ভোগান্তিতে আছি। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। যারা এই অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নাটোরের এই দুটি প্রকল্পে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে, অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এমন অনিয়মের কারণে কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়রা শিক্ষা সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন—
“যাদের যোগসাজশে সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা না হলে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে।”
বিডিবাএন২৪/আরডি
- অর্থপাচারের অভিযোগ সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সচিব হচ্ছেন এনবিআর সদস্য আল আমিন প্রামাণিক
- গ্লোবাল হোম এপ্লায়েন্স ব্র্যান্ড ভ্যারোনিকার হেড অব সেলস হিসেবে যোগদান করলেন এ.কে.এম. কামরুজ্জামান (নিলু)
- ইবির আইন অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন
- সাইবার স্পেসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি জোরদারে নতুন দায়িত্ব
- জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আরেফিন রাফি আহমেদ



